ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেসব পণ্যের দাম বাড়বে।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 3, 2025 ইং
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ফাইল ছবি : রয়টার্স ছবির ক্যাপশন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু মার্কিন অর্থনীতি যেন ভিন্ন কথা বলছে, এত দিন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকা মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ উচ্চ শুল্ক।

ট্রাম্পের সর্বশেষ উচ্চ হারে আমদানি কর আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। যদিও ব্যবসায়ীরা কিছুটা খরচ নিজেরা বহন করার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা এখন হয়তো তার কিছু অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে বাধ্য হবেন। এর অর্থ হচ্ছে, আমেরিকানদের বেশি দাম দিতে হবে।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা শীর্ষ পণ্যের মধ্যে কম্পিউটার অন্যতম। চীন, মেক্সিকো, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ ছিল।


চীন থেকে আসা পণ্যের ওপর এরই মধ্যে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যদিও কিছু ব্যতিক্রম আছে। ১২ আগস্টের মধ্যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি না হলে এই শুল্ক হার আরও বাড়তে পারে। মেক্সিকো থেকে আসা পণ্যগুলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির শর্ত পূরণ করলে শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে।

অন্যদিকে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে আসা পণ্যের শুল্ক আগামী সপ্তাহে বর্তমান হারের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। যদিও সার্বিকভাবে দাম বাড়ার হার সীমিত, ভোক্তা মূল্য সূচকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে কম্পিউটারের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি ছিল।

শীর্ষ পাঁচটি বিদেশি কম্পিউটার রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে না থাকলেও ভারত এখনো যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার ও অন্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বড় সরবরাহকারী। তাদের পণ্যে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।




ইয়েল বাজেট ল্যাবের অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকে, তাহলে স্বল্প মেয়াদে (২-৩ বছরের মধ্যে) কম্পিউটার ও অন্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের দাম ১৮ দশশিক ২ শতাংশ এবং দীর্ঘ মেয়াদে (৩-১০ বছরের মধ্যে) ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে।

ইলেকট্রনিকস পণ্যের মতো পোশাকের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে কেনে যুক্তরাষ্ট্র। প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া।

এসব দেশের ওপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করছেন, তা পোশাকের দামে বড় প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যেহেতু পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আমদানি পণ্যের একটি। ইয়েল বাজেট ল্যাবের অনুমান অনুযায়ী, পোশাকের দাম স্বল্প মেয়াদে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।




নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক জাহান

কমেন্ট বক্স