ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তোকির বিমানটিকে ঘনবসতি থেকে জনবিরল এলাকায় নেওয়ার চেষ্টা করেন: আইএসপিয়ার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 21, 2025 ইং
উওরা মাইলস্টোন ছবির ক্যাপশন: উওরা মাইলস্টোন
আমরা শোকাহত। দয়া করে পাইলটকে ব্লেম দিবেন না। তিনি নিজের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন, কাপুরুষের মতো "ইজেক্ট" করে নিজে বেঁচে বিমানকে স্কুলের উপর ফেলে দেননি। যদি তিনি ইজেক্ট করে নিজে বেঁচে যেতেন তবে তাকে কাপুরষ বলে গালি দেওয়ার চিন্তা করা যেতো (তাও গালি দেওয়া যেতো না, কারণ অন্তিম মুহূর্তে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ইজেক্ট করাই নিয়ম)। ইজেক্ট করা মানে হচ্ছে জাস্ট একটা সুইচ টিপে সেকেন্ডের মধ্যে পাইলটের সীটসহ বিমান থেকে প্যারাশুটের মাধ্যমে বের হয়ে মাটিতে ল্যান্ড করা, তিনি তা সেকেন্ডের সিদ্ধান্তেই করতে পারতেন, কিন্তু ইজেক্ট করেননি, নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছেন। গালি দেওয়ার আগে নিজেকে পাইলয়ের সীটে বসান, আপনি হলে সেই মুহূর্তে সুইচ না টিপে জীবন দিতে পারতেন?
নিম্নের অংশটুকু সংগৃহীত :

আজ ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের সলো ফ্লাইট ট্রেনিং (Solo Flight Training) 

সলো ফ্লাইট ট্রেনিং হলো একজন পাইলটের ট্রেনিংয়ের সর্বশেষ ধাপ। ফাইটার জেট অপারেট করার জন্য একজন পাইলট যে হাই স্কিল্ড, সেটি'ই প্রমাণিত হয় সোলো ফ্লাইটের মাধ্যমে। ট্রেনিং-এর এপর্যায়ে পাইলটকে নেভিগেটর বা কো-পাইলট বা কোনো প্রকার ইন্সট্রাক্টর ব্যতীত একাই ফ্লাইট অপারেট করতে হয়। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির আজ সেরকমই একটি ট্রেনিং ফ্লাইট অপারেট করছিলেন।

যেকোনো প্রকার ট্রেনিং ফ্লাইট সিভিলিয়ান এরিয়া থেকে দূরেই হয়ে থাকে, তবে সলো ফ্লাইট সাধারণত আর্বান এরিয়াতেই হয়ে থাকে৷ আর আর্বান এরিয়াতে এধরণের সেন্সিটিভ ফ্লাইট অপারেট করার জন্য পাইলটকে যথেষ্ট কোয়ালিফাইড হতে হয়। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির তেমনই একজন পাইলট। তো ট্রেনিংয়ের লক্ষ্যে তৌকির তার এফ-৭ বিমান নিয়ে কুর্মিটোলা পুরাতন এয়ারফোর্স বেস থেকে টেক অফ করেন। এরপর উত্তরা, দিয়াবাড়ি, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা'র আকাশজুড়ে তিনি উড়তে থাকেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বিমানে কিছু সমস্যা আঁচ করেন। কন্ট্রোল রুমে রিপোর্ট করে জানান যে তার বিমান আকাশে ভাসছে না, মনে হচ্ছে বিমান নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে ইন্সট্যান্ট রেসপন্স করে ইজেক্ট করার জন্য জানানো হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে যতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে: ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির শেষ মুহূর্ত অব্দি চেষ্টা করেছেন বিমান বাচানোর জন্য। তিনি বিমানটির সর্বোচ্চ ম্যাক স্পিড তুলে বেসের দিকে ছুটতে থাকেন। এর মধ্যেই কন্ট্রোল রুমের সাথে পাইলটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার ঠিক এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হয়।

এখন পর্যন্ত এতটুকুই জানা গেছে। তবে বিমানের ঠিক কি ধরণের টেকনিক্যাল ফেইলিওরের জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটলো, তা কেবলমাত্র ম্যাসিভ ইনভেস্টিগেশন হলেই জানা সম্ভব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক জাহান

কমেন্ট বক্স