প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 26, 2025 ইং
অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকা দরকার

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে দেশের ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। যদিও আইএমএফ প্রাথমিক হিসাবে এ জন্য ১৮ বিলিয়ন ডলারের কথা বলেছিল।
প্রতি ডলার ১২২ টাকা দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার সমান ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। আর ১৮ বিলিয়ন ডলার সমান ২ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান রচিত অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য শীর্ষক বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আলোঘর প্রকাশনার প্রকাশক মো. সহিদ উল্লাহ এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
শুরুতেই বইয়ের লেখক হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, এক যুগ (২০১৩-২০২৫) ধরে লেখা এ বই চলমান বাস্তবতার সাক্ষী হিসেবে যাপিত জীবনের লেন্স দিয়ে দেখা থেকে লেখা। তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসন কীভাবে স্বৈরতন্ত্রে রূপ নিল, তার কিছুটা উঠে এসেছে বইটিতে।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা কিছু সংস্কার করার চেষ্টা করছি। তবে বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় দুর্বলতা হচ্ছে, এটা শহরকেন্দ্রিক। শহরের বাইরে তেমন কিছুই করা যায় না।’
গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, সে সময়কার অবস্থা বিশ্বে কোথাও ছিল না উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে ৮০ শতাংশ অর্থ বের হয়ে গেছে। ব্যাংকের স্থিতি যেখানে ২০ হাজার কোটি টাকা, সেখান থেকে নিয়ে গেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য—তাঁদের ক্ষমতার ভারসাম্য নেই। এখানে সংস্কার না হলে যত সংস্কারই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না। দরকার হচ্ছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুশাসন। তা না হলে প্রশাসনে পরিবর্তন আনা কঠিন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন সমাজ সৃষ্টির যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। এসেছে একদলীয় শাসন এবং গণতন্ত্রকে চলতে দেওয়া হয়নি।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেখ হাসিনার ১৫ বছরে দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শুরু হয়, তখন শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিকতার ছাপ দেখা দেয়। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তা নষ্ট করা হয়েছে। এখন এসেছে সংস্কারের আলোচনা। সংস্কার তো আনতে হবে মানুষের মধ্যে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক জাহান