এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এত বিপুলসংখ্যক ছেলেমেয়ে এত বছর লেখাপড়া করার পর (কমপক্ষে ১১ বছর) তাদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য করল। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পর কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, এবার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে, কেউ কেউ আবার বলছেন এবার উত্তরপত্র লিবারেলি মূল্যায়ন করার চাপ না থাকায় এ সংখ্যা বেড়েছে। এতে তাঁদের মধ্যে পুলকিত ভাবও লক্ষ করা যায়। এটাই বেশি দুঃখজনক। কারণ, তারা ভাবছেন না যে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সের লাখ লাখ ছেলেমেয়ে একটানা ১১-১২ বছর লেখাপড়া করে জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় ফেল করল এবং এত বছর লেখাপড়া করার পরও তারা কোনো সনদ পেল না। এ অতি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার আগে তাদের আর সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য স্বীকৃতিপত্র বা সনদপত্র দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বা নেই। শুধু তাই নয়, এর ফলে তাদের জন্য আরও ওপরে লেখাপড়া করার পথও রুদ্ধ হয়ে গেল। অনেকে বিয়ে করতে বা বিয়ে দিতে সমস্যায় পড়বে, চাকরির দরখাস্ত করা থেকে বঞ্চিত হবে। এর প্রভাব শুধু তাদের ওপর নয় বরং আরও অনেকের ওপর পড়ে। কারণ, এর সঙ্গে তাদের অভিভাবকদের ওপর বিরাট চাপ পড়ে। এসব অভিভাবককে তাঁদের এত বছরের শিক্ষার ব্যয় জোগান দিতে হয়েছে, সবারই বিপুল সময়ের অপচয় হয়েছে। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকার দেখা শুরু করেছেন। এটা অনস্বীকার্য যে এসএসসি পরীক্ষা শুধু নবম-দশম শ্রেণির লেখাপড়ার জন্য সনদপত্র নয়। এ পরীক্ষায় ফেল করার ফল হলো তাদের জীবনের বড় সময়ের তথা কমপক্ষে ১১-১২ বছরের লেখাপড়ার স্বীকৃতি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া। এর আগে তাদের নার্সারি বা শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রতিটি শ্রেণিতে পড়াশোনা করে পাস করে আসতে হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। কারণ, এসএসসি পরীক্ষায় পাস হলো পুরো ১১-১২ বছরের লেখাপড়ার স্বীকৃতি, আর অন্যান্য পরীক্ষা শুধু ওই শ্রেণির সময়কালে লেখাপড়া করার স্বীকৃতি। যেমন—এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল হলো উক্ত শ্রেণির দুই বছর অধ্যয়ন করার ফল।
দৈনিক জাহান